এই ওয়েবসাইটে বইয়ের প্রতিটি অধ্যায় পড়া যাবে এবং প্রতি অধ্যায়ের নিচে বিষয়সংশ্লিষ্ট মন্তব্য কিংবা প্রশ্ন করা যাবে। বাংলায় মন্তব্য করার সময় বাংলা হরফে লিখতে হবে। আর রোমান হরফে লিখলে ইংরেজিতে লিখতে হবে। এছাড়াও চর্চা করার জন্য রয়েছে প্রোগ্রামিং সমস্যা পেজে বেশ কিছু সমস্যা।

কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বইয়ের ইন্টারনেট সংস্করণ।

কম্পিউটারের জন্ম হয়েছিল কম্পিউট বা হিসাব করার জন্য। এখন কম্পিউটারে মানুষ গান শোনে, সিনেমা দেখে, চিঠি লেখে, ফেসবুক করে, ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাঁটি করে এমনকি চুরিচামারি পর্যন্ত করে কিন্তু হিসাব করে না! অথচ কম্পিউটারে কম্পিউট করার মতো আনন্দ আর কিছুতে নয়, সেটি করার জন্য যেটি জানা দরকার, সেটি হচ্ছে একটুখানি প্রোগ্রামিং।

ইউনিভার্সিটিতে বা বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রোগ্রামিং শেখানো হয় কিন্তু স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরাও যে খুব সহজে প্রোগ্রামিং করতে পারে, সেটি অনেকেই জানে না। আমি অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম, স্কুলের ছেলেমেয়েদের জন্য এরকম একটি বই লিখি; কিন্তু কিছুতেই সময় করে উঠতে পারছিলাম না।

ঠিক এরকম সময় আমার ছাত্র সুবিনের এই পাণ্ডুলিপিটি আমার চোখে পড়েছে। আমি অবাক হয়ে লক্ষ করলাম, আমি যে জিনিসটি করতে চেয়েছিলাম সুবিন ঠিক সেটিই করে রেখেছে! স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েদের জন্য একটি প্রোগ্রামিংয়ের বই লিখেছে, খুব সহজ ভাষায়, খুব সুন্দর করে গুছিয়ে।

আমি তার এই চমৎকার বইটির সাফল্য কামনা করি। ছেলেমেয়েরা গান শোনা, সিনেমা দেখা, চিঠি লেখা, ফেসবুক করা, ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাঁটি করার পাশাপাশি আবার কম্পিউটারের মূল জায়গায় ফিরে আসুক – সেই প্রত্যাশায় থাকলাম।


মুহম্মদ জাফর ইকবাল
জানুয়ারি, ২০১১।



লেখকের কথা

বইটি প্রকাশিত হয়েছে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। আর সেপ্টেম্বর মাসে বইটি অনলাইনে প্রকাশিত হলো সৃজনী সাধারণ অবাণিজ্যিক লাইসেন্সে (মূল বইটিও একই লাইসেন্সের আওতায় প্রকাশিত)। ইন্টারনেট সংস্করণে কিছু কিছু জায়গায় ভিডিও এবং অ্যানিমেশনের ব্যবহার করা হয়েছে পাঠকদের সুবিধার্থে। আর কোনো অধ্যায়ে কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের শেষে মন্তব্য করা যাবে, কিংবা বইয়ের ফেসবুক পেজে পোস্ট করা যাবে। আমি উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব, তবে অন্যরাও উত্তর দিতে পারেন। বাংলায় মন্তব্য করার সময় হয় রোমান হরফে (ইংরেজি অক্ষর) বাংলা না লিখে বাংলা হরফে বাংলা লেখার অনুরোধ রইল।

গণিত অলিম্পিয়াডের ভলান্টিয়ার হবার কারণে স্কুল-কলেজের অনেক ছেলেমেয়ের সাথে আমার পরিচয় আছে এবং তারা প্রায়ই আমার কাছে জানতে চায় যে প্রোগ্রামিং শেখার জন্য কোন বই পড়বে? তাদের জন্যই বইটি লেখা। তবে ভার্সিটিতেও অনেককে আমি দেখেছি, প্রোগ্রামিংয়ের ইংরেজি বই পড়তে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না, তাই প্রথম বর্ষে প্রোগ্রামিংয়ে পিছিয়ে পড়ে এবং সেই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পায় না। আমি নিশ্চিত যে তারা যদি কোন বাংলা বই দিয়ে শুরু করত তবে আরো ভালো প্রোগ্রামার হতে পারত। যারা জীবনে প্রথমবারের মতো প্রোগ্রামিং শিখবে তাদের জন্য বইটি উপযোগী। ক্লাশ নাইন ও তার ওপরের ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের বইটি পড়তে কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বইতে 'সি' প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এটি আসলে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের কোনো বই নয়, বরং প্রোগ্রামিংয়ের মৌলিক ধারণাগুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে যাতে ভালো প্রোগ্রামার হওয়ার জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়।

বইটি লেখায় অনেকেই আমাকে নানাভাবে সাহায্য করেছেন তাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও উৎসাহ দিয়ে এবং বিভিন্ন ধরনের ভুল ধরিয়ে দিয়ে। তাঁদের সবার প্রতি রইল আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা। যাদের অবদানের কথা এ মূহুর্তে না বললেই নয়, তাঁরা হচ্ছেন -

মুহম্মদ জাফর ইকবাল (বিভাগীয় প্রধান, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) - স্যার আরো এক বছর আগে থেকেই জানতেন যে আমি প্রোগ্রামিংয়ের একটি বই লিখছি। তো স্যারকে এই ডিসেম্বরে (২০১০ সাল) ড্রাফট পাঠানোর পরে স্যার আমাকে যে ইমেইল পাঠিয়েছেন, সেটি প্রিন্ট করে বাঁধিয়ে রাখার মতো: "i just have gone through your book. i have been thinking about writing a book like this for last five six years- you have done it- i do not need to do it any more. thank you. i have some comments- it's better to talk. i lost your cell number send it to me."

মুনির হাসান (সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড) - শত ব্যস্ততার মাঝেও পুরো বইটি স্যার রিভিউ করেছেন। ধরিয়ে দিয়েছেন নানা টেকনিক্যাল ও ভাষাগত ত্রুটি। আর প্রকাশককে দৌড়-এর উপর রেখেছেন।

শাহ‍্‍রিয়ার মঞ্জুর (এসিএম আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনালের বিচারক এবং বিভাগীয় প্রধান, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ, সাউদইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়) - সুমিত ভাই আইসিপিসি রিজিওনাল মৌসুমে প্রচন্ড ব্যস্ততার মধ্যেও আমার বইটি পুরোটা পড়েছেন এবং নানা মতামত ও পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করেছেন।

মনিকা আকবর (যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া টেক বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞানে পিএইচডি শিক্ষার্থী) - বই লেখার শুরুর দিকে উনাকে কয়েকটি অধ্যায় দেখিয়েছিলাম। তারপর গত এক বছরের বেশি সময় ধরেই উনি সুদূর আমেরিকা থেকে নিয়মিত ইয়াহু মেসেঞ্জারে আমাকে তাড়া দিয়েছেন: "তোর বই কদ্দুর?", "কবে শেষ হবে?", "তাড়াতাড়ি শেষ কর, থেমে থাকলে আর শেষ হবে না" - এই ধরনের ডায়লগ দিয়ে গেছেন নিয়মিতই।

মোস্তাফিজুর রহমান রাজীব (কানাডার সাইমন ফ্রেশার বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞানে মাস্টার্সের শিক্ষার্থী) - বইটি খুব মনোযোগ দিয়ে রিভিউ করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়েছে আমার বন্ধু ও সহপাঠী মোস্তা।

ওমর শেহাব (যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যারিল্যান্ড, বাল্টিমোর কাউন্টি-তে পিএইচডি শিক্ষার্থী) - আমার বন্ধু শেহাবও বইটি যত্ন করে রিভিউ করেছে একাধিকবার। তার ফিডব্যাকও আমার অনেক কাজে লেগেছে।

তৌহিদুল ইসলাম (সফটওয়্যার প্রকৌশলী) - পুরো বইটি একাধিকবার পড়ে সে অনেক ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিয়েছে এবং মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছে।

রুহুল আমিন সজীব (শিক্ষক, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) - বইটির শুরুর দিকে কিছু অধ্যায় রিভিউ করেছে।

মাহমুদুর রহমান (সাবেক এসিএম আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনালিস্ট, প্রবলেম সেটার এবং প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা, মুক্ত সফটওয়্যার লিঃ) - শুরু থেকেই বইটি লেখার ব্যাপারে আমাকে উৎসাহ ও নানা পরামর্শ দিয়ে এসেছে।

সাব্বির ইউসুফ (সাবেক এসিএম আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনালিস্ট, ও সিনিয়র সফটওয়্যার প্রকৌশলী, মুক্ত সফটওয়্যার লিঃ) - সানির কিছু পরামর্শও বেশ কাজে লেগেছে।

তানভিরুল ইসলাম (ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরে পিএইচডি শিক্ষার্থী) - পুরো বইটি রিভিউ করে ফিডব্যাক ও উৎসাহ দিয়েছে।

সাঈদ সিয়াম (যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি অধ্যয়নরত) - শুরুর দিকে কিছু চ্যাপ্টার রিভিউ করেছে।

মানযুরুর রহমান খান (সাবেক এসিএম আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনালিস্ট, বর্তমানে গুগলের মাউন্টেন ভিউ অফিসে  সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত) - বইটি লেখার সময় যখনই কোন বিষয়ে আমি একটু কনফিউজড হয়েছি, সিদকীর সাথে কথা বলেছি।

রাইয়ান কামাল (সফটওয়্যার প্রকৌশলী, মুক্ত সফটওয়্যার লিঃ) - বইটি লেখার শুরুতে পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়েছে।

তাসকিনুর হাসান (সফটওয়্যার প্রকৌশলী, মুক্ত সফটওয়্যার লিঃ) - সাজিদ বইটি রিভিউ করেছে এবং তার ফিডব্যাক দিয়েছে।

আনা ফারিহা (শিক্ষার্থী, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) - একেবারে শেষ মুহূর্তে একাধিকবার বইটি পড়েছে এবং অনেক ভুলত্রুটি আবিষ্কার করে আমাকে সাহায্য করেছে।

নাফিজ ইশতিয়াক (শিক্ষার্থী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) - বইটি রিভিউ করে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে।

আসিফ সালেকিন (শিক্ষার্থী, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ, বুয়েট) - আমার চাচাতো ভাই অনিক বইটি রিভিউ করেছে।

আবিরুল ইসলাম (আইওআইতে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র রৌপ্যপদক জয়ী। বর্তমানে শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর) - শুরুর দিকের অনেক চ্যাপ্টার রিভিউ করে তার মতামত দিয়েছে এবং উৎসাহ দিয়েছে।

এছাড়া বলতে হয় প্রথম আলোর আলমগীর ভাই, কমল কর্মকার, বিডিওএসএনের আইয়ুব ভাই, মুভার্স জুয়েল, সৃজনী প্রকাশনীর মশিউর ভাই ও তাম্রলিপির রনি ভাই। তাদের ছাড়া বইটি প্রকাশ সম্ভব ছিল না।

আর ইন্টারনেট সংস্করণে যেকোনো ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিলে যত দ্রুত সম্ভব সংশোধনের চেষ্টা করব এবং কৃতজ্ঞ থাকব।

ধন্যবাদ,
তামিম শাহ‍্‍রিয়ার সুবিন।